ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাগামহীন চট্টগ্রামের চালের বাজার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০৬-২০২৬ ০১:০৭:৩০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৬-২০২৬ ০১:০৭:৩০ অপরাহ্ন
লাগামহীন চট্টগ্রামের চালের বাজার ফাইল ছবি
বোরো ধানের ভরা মৌসুম, চালের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি, বাজারেও নেই সরবরাহ ঘাটতি। তবু কমেনি চালের দাম, উল্টো বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে চট্টগ্রামের বাজারে সুগন্ধি চাল চিনিগুড়ায় বস্তাপ্রতি বেড়েছে এক হাজার টাকারও বেশি। মোটা, সিদ্ধ, আতপ সব চালেই বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কোনো জবাবও নেই।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী পাইকারি বাজার, চালের সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। এ বাজারে এক সপ্তাহ আগে চিনিগুঁড়া চালের দাম ছিল বস্তাপ্রতি ৬ হাজার ৬০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ টাকা, এখন যা ৭ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ বস্তায় বেড়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

কিন্তু হঠাৎ কী এমন হলো চিনিগুড়া চালের বাজারে? এমন প্রশ্নে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কোনো উপযুক্ত জবাব দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ জানালেন সিন্ডিকেটের কথা।

বোরোর ভরা মৌসুমে দাম বেড়েছে গরীবের চাল হিসাবে পরিচিত মোটা চালেরও। বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেড়ে এ চাল এখন ২৪শ' টাকা। একইসাথে মিনিকেট, জিরা সিদ্ধ, নাজির শাইল, কাটারিসহ সব চালে বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৫০০ টাকা।

ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, ‘চাউলের কোনো অভাব নেই। কিন্তু ভারত থেকে যেটা ইমপোর্ট হচ্ছে, সেটি সরকার অফ করার সঙ্গে সঙ্গেই সিন্ডিকেটরা সবাই দুই-তিনশো টাকা করে প্রতি বস্তায় বাড়ায় দিয়েছে।’
 
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাত্র এক মাস আগে বোরো ধান উঠেছে। এই সময়টাতে চালের দাম কমার কথা অথচ বাজারের চিত্র পুরোই উল্টো। মিল মালিকদের কারসাজিতে দাম বেড়েছে দাবি আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘চিনিগুঁড়া চাউল তারা এমনভাবে স্টক করছে মনে হয় তারা মানুষের পকেট থেকে টাকাটা হাতায় নিয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ না কোটি কোটি টাকা হাতায় নিয়ে যাচ্ছে। এক বস্তা চিনিগুঁড়া চাউলে যদি ১৫০০ টাকা বাড়ে তাহলে কী পরিমাণ টাকা হচ্ছে?’

ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রধান এ খাদ্যপণ্যের বাজার সিন্ডিকেট করে বারবার অস্থির করছে। চালের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কঠোর হাতে দমনের দাবি তাদের।

ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘অজুহাত একটা, কিছু তেলের দাম বাড়লো, কিছু ইলেকট্রিকের দাম বাড়লো ওই ধরনের অজুহাত দিয়ে মিল মালিকরা রেট বাড়ায় দেয়, এখন সিন্ডিকেট।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, দেশে বছরে চালের চাহিদা ৩ কোটি ৬০ থেকে ৮০ লাখ টন। উৎপাদন তার চেয়ে দেড় লাখ টন বেশি। তাহলে চালের দাম কেন বাড়বে, সে প্রশ্ন ভোক্তাদের।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ